জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোগীর চাপ বাড়ায় নির্ধারিত শয্যার সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝে ও দীর্ঘ বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৮৭ জন এবং পরের ২৪ ঘণ্টায় ৬৯ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। সোমবার সকাল পৌনে ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬১ জনে। অথচ হাসপাতালের প্রথম ভবনে অবস্থিত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রয়েছে মাত্র ৪২টি।
সোমবার ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর চাপে সেখানে উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত শয্যাগুলোতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যা না পেয়ে অনেকে ওয়ার্ডের মেঝে ও দুই পাশের দীর্ঘ বারান্দায় অবস্থান করছেন। এদিকে নার্সরা দ্রুত রোগীদের স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ করছেন।
শয্যাসংকটের মধ্যেও কাউকে ফিরিয়ে না দিয়ে সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা। তবে রোগীর অতিরিক্ত চাপে জরুরি সেবা দিতে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর এলাকার ডায়রিয়া আক্রান্ত আব্দুল হালিমের মেয়ে জয়নুক পারভীন বলেন, “আব্বার হঠাৎ পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। পরে শুক্রবার রাতে তাঁকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে রেফার্ড করে জয়পুরহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখানে এসে কোনো শয্যা পাওয়া যায়নি। রোগীর চাপ বেশি থাকায় হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে তাঁর চিকিৎসা চলছে।”
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশিক আহমদ জেবাল বলেন, হঠাৎ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। তবে হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়া প্রতিরোধে সবাইকে খাবারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। খোলা, বাসি ও নষ্ট খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান