
বহিরাগতদের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, হাসপাতালে প্রধান শিক্ষকসহ আহত ১০
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সরলখাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলমের পুনর্বহাল ও যোগদানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের এ বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে প্রধান শিক্ষকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আদিতমারী থানা পুলিশ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলমকে জোরপূর্বক বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বিদ্যালয়ে যোগদানের চেষ্টা করলেও এলাকার কিছু লোকজন তাঁকে বাধা দিয়ে আসছিলেন।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে রশিদুল আলম বিদ্যালয়ে গেলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগত বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা চালান। প্রধান শিক্ষকের ওপর আক্রমণ করা হলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
তবে সংঘর্ষের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষে প্রধান শিক্ষক রশিদুল আলম ও নয়জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব জানান, ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে যোগদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, তাঁকে পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার তদন্ত, প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
দৈনিক জনতার দেশকণ্ঠ
সত্যের সন্ধানে, সর্বক্ষণ।