
জয়পুরহাটে প্রথমবারের মতো প্রযুক্তির সহায়তায় ব্যতিক্রমী আয়োজনে উদযাপিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিমার নড়াচড়া, মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তি এবং দেবী দুর্গার সঙ্গে মহিষাসুরের যুদ্ধের দৃশ্য তুলে ধরা হবে। এ আয়োজনে থাকছে মোট ৩৩টি প্রতিমা।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার ৪ নম্বর মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের চকমোহন রায়পাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে পূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। চারতলাবিশিষ্ট মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগরেরা।
মন্দিরটিতে সাধারণত পাঁচ থেকে ছয়টি প্রতিমা দিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হলেও এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগে তৈরি করা হচ্ছে ৩৩টি প্রতিমা। আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী, পুরো আয়োজন সম্পন্ন করতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা ব্যয় হবে।
প্রতিমা ডিজাইনার সজিব রায়ের তত্ত্বাবধানে এবং ঢাকা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কারিগরদের সহযোগিতায় প্রতিমাগুলো তৈরি করা হচ্ছে। মোটর ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সাহায্যে প্রতিমার নড়াচড়া এবং পৌরাণিক কাহিনির বিভিন্ন দৃশ্য জীবন্তভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের।
মন্দির কমিটির সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায় বলেন, জয়পুরহাটে এবারই প্রথম এ ধরনের ডিজিটাল দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিমাগুলোকে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে ঢাকার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কারিগরদের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধসহ বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি তুলে ধরা হবে। এতে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দেখার পাশাপাশি দৃশ্যের মাধ্যমে পৌরাণিক ঘটনাগুলো আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।
আয়োজক মিনতি রানী সরকার বলেন, প্রতিবছরই তাঁরা দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। তবে এবার নতুনত্ব আনতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজনটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে দর্শনার্থীদের সামনে ব্যতিক্রমী কিছু তুলে ধরতে চান তাঁরা।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যতিক্রমী আয়োজন জয়পুরহাটের দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করবে এবং শারদীয় দুর্গোৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করবে।