
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, শিক্ষার্থীদের মারধর ও হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা। এ সময় বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করেন অভিভাবকরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রূপবাটি গ্রামের শতাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, কয়েকশ অভিভাবক ও গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে দুগালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা, সুমাইয়া ও কেয়া অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে দুগালী গ্রামের কিছু শিক্ষার্থী নিয়মিত তাদের উত্ত্যক্ত করে। ফলে প্রতিদিনই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের। এ ছাড়া রূপবাটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাঝেমধ্যে দুগালী গ্রামের কিছু শিক্ষার্থী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মারধর ও হামলা করে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকরাও অভিযোগ করেন, ইভটিজিং ও হামলার বিষয়ে দুগালী গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চেয়েও কোনো প্রতিকার পাননি তারা। গত শনিবার ওই গ্রামের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রূপবাটি গ্রামের তিনজনের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
অভিভাবকরা বলেন, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে রূপবাটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। এতে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তাই দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ সময় অভিযোগগুলোর যথাযথ প্রতিকার না হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিনের পদত্যাগও দাবি করেন অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে দুগালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে রূপবাটি ও দুগালী গ্রামের দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধান করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের বাইরে রূপবাটি গ্রামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর এবং ওই গ্রামের কয়েকজনের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তাঁর জানা নেই।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হামলা ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ তদন্ত এবং বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।