চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় নতুন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন উম্মে সালমা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাঁর যোগদান উপলক্ষে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
মতবিনিময় সভায় নবযোগদানকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উম্মে সালমা হাইমচরের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “আমি হাইমচরে নতুন যোগদান করেছি। আমার চাকরিজীবনের আর প্রায় দেড় বছর বাকি। চাকরিজীবনের শেষ সময়টুকু আপনাদের সঙ্গে থেকে হাইমচরের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। এ জন্য আপনাদের সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
পদোন্নতির জন্য তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) নির্ধারিত নিয়মে জমা ও হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দেন। এতে পদোন্নতিসংক্রান্ত কার্যক্রম সহজ ও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হাইমচরের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে উম্মে সালমা বলেন, এখানকার যোগাযোগব্যবস্থা এত ভালো, তা সরেজমিনে না এলে বুঝতে পারতেন না। এ যোগাযোগব্যবস্থা বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।
বিদ্যালয় চলাকালীন দাপ্তরিক প্রয়োজনে উপজেলা শিক্ষা অফিসে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া কিংবা যথাযথ অনুমতি না নিয়ে পাঠদান চলাকালে কর্মস্থল ত্যাগ করা উচিত নয়। জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দাপ্তরিক কাজে অংশ নিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানসুর আহমেদ নবযোগদানকারী কর্মকর্তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, হাইমচরের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা অফিস ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। নতুন কর্মকর্তার নেতৃত্বে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিতকরণ, শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি নবযোগদানকারী কর্মকর্তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শেখ আবু জাফর শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উম্মে সালমাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত সমস্যা সমাধান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক সমিতি সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিস ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক সমিতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। শিক্ষকদের ন্যায্য সমস্যা ও দাপ্তরিক বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে বিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি নবযোগদানকারী কর্মকর্তার অবশিষ্ট কর্মজীবনের সফলতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
৭ নম্বর পূর্বচর কৃষ্ণপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক নিঃশেষ নারায়ণ মজুমদার বলেন, উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যালয়গুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকলে দাপ্তরিক কার্যক্রম সহজ হবে এবং শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।
শিক্ষক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মতামত, নতুন উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সমন্বয় প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি দূর করা এবং বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষক নেতৃবৃন্দও নবযোগদানকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উম্মে সালমাকে শুভেচ্ছা জানান এবং হাইমচরের প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের পদোন্নতিসংক্রান্ত কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা এবং শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানসুর আহমেদ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শেখ আবু জাফর, সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন, ৭ নম্বর পূর্বচর কৃষ্ণপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক নিঃশেষ নারায়ণ মজুমদার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সালাহউদ্দিন, ১৯ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, ২৯ নম্বর চরশোলাধী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন আক্তার, ৪২ নম্বর বাবুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম খান এবং সহকারী শিক্ষক মো. আজহারুল ইসলাম, উত্তম কুমার চৌধুরী, মো. হেলাল উদ্দিন, জাকারিয়া স্বপন, জামাল হোসেন, মো. আবুল কালাম, আবদুস সালাম ও মানবেন্দ্র মজুমদারসহ শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান