
মো. ফরিদ হোসেন
মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
দৈনিক জনতার দেশকণ্ঠ
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মেহনতি ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি।
কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, উন্নত ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই বিএনপি নেতা। তাঁর পরিকল্পনা, ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করা।
যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। তাঁর মতে, মাদক শুধু একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত করে না, বরং সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলাও নষ্ট করে।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অভিভাবকদের সচেতন করতে উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা তাঁর। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক, যুবসমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চান তিনি।
পাশাপাশি তরুণদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলা এবং তাদের জন্য ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
উন্নত সমাজ গঠনে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহযোগিতার উদ্যোগ নিতে চান।
বিশেষ করে আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য স্থানীয়ভাবে সহযোগিতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা তাঁর। এ ছাড়া শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি।
তাঁর লক্ষ্য, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রতিটি শিশু মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাবে এবং তরুণ প্রজন্ম শিক্ষিত, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
গ্রামীণ জনপদের সার্বিক উন্নয়নে যোগাযোগব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। তাঁর মতে, চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাঘাটের কারণে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত ও চলাচলের অনুপযোগী সড়কগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান তিনি।
পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বর্ষা মৌসুমে মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিতে চান। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ইউনিয়নের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তিনি।
নির্বাচিত হলে দরিদ্র, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাতে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিতে চান। পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিদের বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পেতে সহায়তা করার প্রত্যাশা তাঁর।
এ ছাড়া যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করা, দরিদ্র পরিবারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
জনগণের কথা শোনা এবং তাদের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করাকে জনপ্রতিনিধির অন্যতম দায়িত্ব বলে মনে করেন সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদের সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা গ্রহণে মানুষকে সহযোগিতা করা এবং এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিতে চান।
একই সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং দল-মতনির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যাশা তাঁর।
এ ছাড়া স্থানীয় বিরোধ-বিবাদ নিরসনে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং নারী, শিশু ও প্রবীণদের জন্য নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ তৈরির বিষয়টিও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে।
সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকের মতে, একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পরিবেশ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করা এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে চান তিনি। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
তিনি মনে করেন, জনগণের সহযোগিতা, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষার প্রসার, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মেহনতি ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে এগিয়ে যেতে চান বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক।
তবে তাঁর এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ, প্রশাসনিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান