
পাঁচ দিন পর খুলশীর পৃথক দুটি বাসা থেকে উদ্ধার, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিলল সন্ধান
সাদ্দাম হোসেন সাইফ | লামা, বান্দরবান
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা মুসলিম পাড়া এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন স্কুলছাত্রীকে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পৃথক দুটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বান্দরবান জেলা পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য থেকে এ ঘটনা জানা যায়। তিন শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছিল। তাদের উদ্ধারের খবরে স্বস্তি ফিরেছে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে।
উদ্ধার হওয়া তিন শিক্ষার্থী হলো—রেশমি আক্তার (১৭), তানিয়া সুলতানা (১৩) ও হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)। তারা লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা মুসলিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তারা নিখোঁজ হয়। তাদের সন্ধানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকার ২ নম্বর রোডের একটি বাসা এবং খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ারের আরেকটি বাসা থেকে তাদের পৃথকভাবে উদ্ধার করা হয়।
তিন শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের ঘটনায় বান্দরবান জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার, লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইছার হামিদ, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জামিল আহমেদ এবং এএসআই মনসুর আলমের তৎপরতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার কথা জানা গেছে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের উদ্ধারে পুলিশ সদস্যরা কাজ করেন। পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া তিন শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের ওই বাসাগুলোতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য অবস্থান করছিল। তবে তারা কীভাবে সেখানে পৌঁছেছিল, কার মাধ্যমে গিয়েছিল কিংবা এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
তিন শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং চট্টগ্রামে তাদের অবস্থানের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যের অপেক্ষা করছেন স্থানীয়রা।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকায়। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যথাযথ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতন মহল।
সূত্র: বান্দরবান জেলা পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য।