লালমনিরহাট সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযানে ভারতীয় নিষিদ্ধ ইস্কাফ সিরাপের চালান জব্দ করেছে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত অনন্তপুর ও বনচৌকি বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ বিজিবির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় সিরাপের বোতল উদ্ধার করা হয়।
অনন্তপুর বিওপিতে অভিযান
অনন্তপুর বিওপির টহল কমান্ডারের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ দল সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তিকে বস্তা নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাঁদের চ্যালেঞ্জ করলে তাঁরা বস্তা ফেলে ভারতের দিকে পালিয়ে যান। পরে বস্তাগুলো তল্লাশি করে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
বনচৌকি বিওপিতেও সিরাপ উদ্ধার
একই সময়ে বনচৌকি বিওপির আওতাধীন এলাকায় বিজিবির আরেকটি দল অভিযান চালায়। সেখানেও পরিত্যক্ত অবস্থায় ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। তবে দুই অভিযানে মোট কত বোতল সিরাপ জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাদক পাচার রোধে নজরদারি জোরদার
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইস্কাফ সিরাপের অপব্যবহার তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ ধরনের মাদকের অবৈধ প্রবেশ ও বিস্তার রোধে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত নজরদারি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
১৫ বিজিবির একটি সূত্র জানায়, সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত নিরাপদ রাখতে এ ধরনের তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
পৃথক দুটি অভিযানে ইস্কাফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার বন্ধে নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান