কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সৎ ভাসুর ও স্বামীর ভাতিজাকে আইনি ঝামেলায় জড়াতে এক নারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. নাসরিন বেগম (২৮) গত ১৪ অক্টোবর বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি তাঁর সৎ ভাসুর মো. আয়না মিয়া ওরফে মো. আইন উদ্দিন (৫৫) এবং স্বামীর ভাতিজা মো. অন্তত মিয়াসহ (২৫) কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, ঘর নির্মাণের ১৯টি সিমেন্টের পিলার ভাঙচুর এবং প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনেন। পাশাপাশি তাঁর স্বামী আনোয়ার হোসেনকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তবে গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দড়িগাঁও গ্রামে গিয়ে অভিযুক্ত মো. আয়না মিয়াসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. কামরুল ইসলাম (৫২), সাবেক ইউপি সদস্য মো. হেলিম মিয়া (৬০), ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল আওয়াল (৬০), ব্যবসায়ী মো. বাবুল মিয়া (৪০), মাসুম মিয়া (৩২), লিটন (৫০), রমজান আলী (৬৫), হারুন মিয়া (৪৫), খোকন মিয়া (৫৫), শামীম (৪০) ও বিল্লাল মিয়াসহ (৫২) কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগে উল্লেখ করা তারিখে সেখানে কোনো ভাঙচুর, হামলা কিংবা হুমকির ঘটনা ঘটেনি। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগের পক্ষে তাঁরা কোনো ঘটনার সত্যতা পাননি। তবে এ বিষয়ে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
এলাকাবাসীর কয়েকজন আরও অভিযোগ করেন, নাসরিন বেগম, তাঁর স্বামী আনোয়ার হোসেন ও তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের দাবি, এ কারণে এলাকার যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁরা জানান, এ বিষয়ে আগে একাধিকবার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদকের নোট: অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে বিষয়টি আরও যাচাই করা প্রয়োজন।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান