সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক দুটি ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা দাবি এবং সাত বছর বয়সী এক শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
শাহজাদপুর থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের করশালিকা চরপাড়া এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. এছাহাক আলীর স্ত্রী মোছা. নুরনাহার খাতুন (৩৮) সাইবার ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীর এক আত্মীয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী গত তিন থেকে চার বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করায় তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন। সম্প্রতি একটি অজ্ঞাতনামা নম্বর থেকে ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর ও তাঁর স্বামীর নম্বরে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগীর ইমো মেসেঞ্জারে কিছু ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়ে একটি বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ‘Md Rakib Hossain’, ‘F Hafizul 45’ ও ‘Anamul 13’সহ একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, উপজেলার ব্রজবালা কুঠিরপাড়া এলাকায় সাত বছর বয়সী দুই শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মৃত আমানাল হাজীর ছেলে মো. আব্দুল মালেক মন্ডলের (৪৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক শিশুর বাবা মো. মামুন আলী বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) নূরানী কিন্ডারগার্টেনের দুই শিক্ষার্থী খেলাধুলা শেষে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় অভিযুক্ত মালেক মন্ডল দোকান থেকে খাজা কিনে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে শিশু দুটিকে তাঁর টিনের ঘরে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পৃথক দুটি ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
নোট: অভিযোগগুলো তদন্তাধীন থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন না করে ‘অভিযোগ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান