
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সাতটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। এ সময় প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও তিনটি ড্রেজার মেশিন নিয়ে পালিয়ে যান বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের সামাদের ঘাট এলাকায় দুধকুমার নদে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জামিলুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর এলাকায় দুধকুমার নদে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা, জহুরুল হক, জাহাঙ্গীর আলম, রুহুল আমিন ও আইজুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নদীর তীররক্ষা বাঁধের কাছাকাছি স্থান থেকে বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। এতে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে জব্দ করা সাতটি ড্রেজার মেশিনের মধ্যে পাঁচটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি দুটি মেশিন নদীতে থাকায় সেগুলো ইউপি সদস্য আবদুল কালামের জিম্মায় রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে মেশিন দুটি থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুধকুমার নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছিল।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জামিলুর রহমান অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুধকুমার নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।