লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ২৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরপর দুই দফা চুরির ঘটনা ঘটেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে একই বিদ্যালয়ে বারবার চুরির ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।
বিদ্যালয়ের ভবনে রয়েছে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে থাকা তথ্য অনুযায়ী, খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়, যার নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০ জুলাই ২০০০ সালে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিশুদের শিক্ষাদানে ভূমিকা রেখে আসা এই প্রতিষ্ঠানেই চুরির ঘটনা ঘটায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই দফা চুরিতে খোয়া গেছে গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই দফায় বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, শিক্ষা উপকরণ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী খোয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চোরেরা বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এসব সামগ্রী নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
প্রধান শিক্ষকের কান্না, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তিনি বলেন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বারবার চুরির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণও চুরি হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
ক্ষোভ প্রকাশ অভিভাবক ও এলাকাবাসীর
একই বিদ্যালয়ে পরপর দুইবার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তাঁদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিনের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে?
তাঁরা দ্রুত চুরির রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি
এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযোগ দায়ের, পুলিশি তদন্ত কিংবা চুরির ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ই-পেপার
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিজানুর রহমান