রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দুর্গাপূজা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, পাটগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আদিতমারিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ, প্রতিটি মণ্ডপে বডি ক্যামেরায় নজরদারির পরিকল্পনা মাদারীপুরের রাজৈরে ১০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার আদিতমারিতে জোবেদা বেগম নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার উদ্বোধন করলেন এমপি রোকন উদ্দিন বাবুল মেলান্দহে ৮৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা বহিষ্কার মানিকগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত সন্দেহে ২ হাজার ছাড়াল রোগী, হাম শনাক্ত ৪৭ জনের জয়পুরহাটের দুর্গাদহ কলার হাটে কোটি টাকার বাণিজ্য, ভোগান্তিতে কৃষক-ব্যবসায়ীরা লালমনিরহাট সীমান্তে ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ পাঁচবিবিতে পুকুর সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু লালপুরে অনলাইন জুয়া ও বেটিং পরিচালনার অভিযোগে যুবক আটক, দুটি মোবাইল জব্দ

দৌলতপুরে নদীভাঙনে হুমকির মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও ২০০ পরিবার

- / বার্তা পাঠানো হয়েছে
সোমবার, ১৭ অগাস্ট, ২০২৬
  • সোমবার, ১৭ অগাস্ট, ২০২৬

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: মো. ফরিদ হোসেন

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে নদীভাঙন। উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের আমতলী হাট, আমতলী ফেদু সেক উচ্চ বিদ্যালয়, আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বৈন্যা গ্রামের প্রায় ২০০টি বসতবাড়ি, তিন শতাধিক দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, যমুনা নদীর একটি শাখা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বৈন্যা গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জিয়নপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, “নদীভাঙনে আমরা পুরোপুরি দিশেহারা। চোখের সামনে বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে পারছি না। পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী করব—কিছুই বুঝতে পারছি না। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে বৈন্যা গ্রামের মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করার দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমতলী হাট, ফেদু সেক উচ্চ বিদ্যালয় ও আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বৈন্যা গ্রামের প্রায় ২০০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে গ্রামের প্রধান সংযোগ সড়ক, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হবি বলেন, প্রায় ৫০০ ফুট এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলে প্রায় ২০০ পরিবারকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এতে আমতলী হাট ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রক্ষা পাবে। নদী থেকে মাত্র প্রায় ২০০ গজ দূরে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির দিকে যেভাবে ভাঙন এগোচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেগুলো নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংরক্ষিত ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম বলেন, “আর কয়েকদিন এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আমার বাড়িঘরও নদীভাঙনের মুখে পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও বসতভিটাসহ সবকিছু রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতোয়ার রহমান জানান, নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধের পাশাপাশি পরবর্তীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। বিষয়টি মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত আছি। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। লিখিত আবেদন পেলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নদীপাড়ের মানুষের দাবি, দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শত শত পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews