
নাটোরের লালপুরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর ও সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে কাঁচা ও মাছের বাজার বসানোর কারণে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় পথচারী, শিক্ষার্থী, যাত্রীসাধারণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। যানজটের কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী রোগী ও অ্যাম্বুলেন্সকেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে লালপুর বাজার মোড় থেকে সুন্দরী মার্কেট পর্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়কের দুই পাশে এবং কোথাও কোথাও সড়কের ওপর কাঁচামাল ও মাছের দোকান বসানো হয়েছে। দোকানগুলোর সামনে ক্রেতাদের ভিড় এবং সড়কের ওপর পণ্য ওঠানামার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই সড়কের বিভিন্ন অংশে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে সড়কটিতে। কিন্তু সড়কের জায়গা দখল করে বাজার বসানোর কারণে যানবাহন চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য কোনো যানবাহন থামলেই পেছনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, নির্দিষ্ট ও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবেই তারা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে বসে ব্যবসা করছেন। স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী আলম ও সিরাজ বলেন, “আমাদের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। বাধ্য হয়েই সড়কের পাশে বসে ব্যবসা করতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করে দেয়, তবে আমরা সেখানেই চলে যেতে প্রস্তুত।”
মাছ ব্যবসায়ী আনোয়ারও একই সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, সকালে ক্রেতাদের চাপ বেশি থাকে। বাজারের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক সময় রাস্তার পাশে বসতে হয়। এতে যানজট তৈরি হলেও ব্যবসা পরিচালনার জন্য তাদের সামনে অন্য কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে সড়কের ওপর এমন অপরিকল্পিতভাবে বাজার বসানোর কারণে স্থানীয় জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সকালবেলা স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় পথচারীদেরও চলাচলের জন্য নির্ধারিত জায়গা না থাকায় যানবাহনের মাঝ দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী টুটুল বলেন, “প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই সড়কে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে। রোগীরা সময়মতো ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না। এমনকি জরুরি চিকিৎসাসেবার অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।”
সড়ক দখল করে এভাবে বাজার বসানোকে অবৈধ ও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) লালপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মোত্তালেব রায়হান। তিনি বলেন, সড়ক কোনোভাবেই বাজার বসানো বা স্থাপনা তৈরির জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে যানজটের পাশাপাশি পথচারী ও যানবাহনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
লালপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকাই মূল সমস্যা। বাজারের নির্ধারিত জায়গা সীমিত হওয়ায় অনেকে বাধ্য হয়ে বাইরে বসছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে। ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা গেলে সড়কের ওপর বাজার বসানোর প্রবণতা কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজারটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সড়ককেন্দ্রিক হওয়ায় প্রতিদিনই যানজটের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে বাজারের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দ্রুত বাজারের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করে ব্যবসায়ীদের সেখানে স্থানান্তর করা হলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের সুবিধা হবে, অন্যদিকে সড়কও যানজটমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।
সার্বিক বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন বলেন, “সড়কের ওপর বাজার বসানোর বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করে সড়ক দখলমুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
প্রশাসনের এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে লালপুর বাজার এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি সড়কের ওপর বাজার বসানোর পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্থানে বাজার পরিচালনা এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।