
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক সন্তানের জননী। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে প্রেমিক সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন নামের ওই নারী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিয়াম তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে তাঁকে বিয়ে না করে অন্য এক নারীকে বিয়ে করতে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেন।
স্থানীয়রা জানান, সাবিনা ইয়াসমিন অবস্থান নেওয়ার পর সিয়াম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এদিকে সিয়াম তাঁকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা করবেন বলে জানিয়েছেন সাবিনা।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সিয়ামের বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এ সময় তাঁকে দেখতে আশপাশের প্রতিবেশী ও স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবিনা ইয়াসমিন মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাঁদের চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর স্বামী একটি এনজিওতে চাকরি করেন।
অন্যদিকে সিয়াম হিন্দা এলাকার আব্দুল মোতালেবের ছেলে। তিনি মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি গ্রামে তাঁর নানার বাড়িতে বসবাস করেন। স্থানীয় প্রতিবেশীদের দাবি, পরিচয়ের পর প্রায় দুই বছর আগে সাবিনা ও সিয়ামের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সিয়াম আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। একপর্যায়ে সে আমার ঘরেও আসা-যাওয়া করত। একদিন আমার প্রতিবেশী ভুট্টুম তাকে ঘরে দেখে ফেলেন। তখন সিয়াম আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এরপরও সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হঠাৎ জানতে পারি, সিয়াম অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করতে ধাওয়াপাড়া-কাপাসটিকরি গ্রামের প্রবাসী সদরুল আলমের মেয়ের বাড়িতে গেছে। এ খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আমি সিয়ামের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছি। সিয়াম না আসা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না। আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করব।’
তবে সাবিনা ইয়াসমিনের এসব অভিযোগের বিষয়ে সিয়ামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা সাকিলুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা সম্ভব হচ্ছে না।’
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুক্তারুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। স্থানীয়ভাবে সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’