
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা থেকে আক্কেলপুরের জামালগঞ্জে ভ্যানযোগে নেওয়ার সময় ১৯ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ক্ষেতলাল উপজেলার মনঝাড় বাজার এলাকায় স্থানীয় লোকজন দুটি ভ্যান থামিয়ে সারগুলো জব্দ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সারগুলো নিজেদের হেফাজতে নেন।
স্থানীয় লোকজন ও ভ্যানচালকের সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলার মোলামগাড়িহাট বাজারের সার ডিলার মিজানুর রহমানের দোকান থেকে দুটি ভ্যানে করে ডিএপি সার জামালগঞ্জের দিকে নেওয়া হচ্ছিল। ভ্যান দুটি ক্ষেতলালের মনঝাড় বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন সেগুলোর গতিরোধ করে তল্লাশি চালান। এ সময় ভ্যান দুটিতে ১৯ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুর রউফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে জব্দ করা সার প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রস্তুত করা জব্দ তালিকায় নয়ন নামের এক ভ্যানচালকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জব্দ তালিকা অনুযায়ী, ১৯ বস্তা ডিএপি সারের মূল্য ১৯ হাজার ৯৫০ টাকা। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, একই সময় ওই সড়ক দিয়ে আরও কয়েকটি সারবোঝাই ভ্যান চলাচল করেছে। তবে সেগুলো আটক করা সম্ভব হয়নি বলে তারা জানান।
পরে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া জব্দ করা সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়। বিক্রয়লব্ধ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আব্দুর রউফ।
তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন দুটি ভ্যানে থাকা সার আটক করে প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সারগুলো উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সার সংকট রোধ ও কৃষকদের কাছে সরকারি মূল্যে সার পৌঁছে দিতে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
অভিযানের সময় তুলশীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর শহিদ কালুসহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জব্দ করা সার পরিবহনের বিষয়ে সার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।