
মানিকগঞ্জে ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের প্রস্তুতির অভিযোগে নয়জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজনকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর পাট গবেষণা এলাকায় পরিত্যক্ত হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনা শনাক্ত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অভিযানকালে কারখানার ভেতরে ১৩টি ঘোড়া জবাই করা অবস্থায় এবং একটি ঘোড়া জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে নয়জনকে আটক করা হয়।
আটকদের বিরুদ্ধে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ২৪ ধারায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মো. মিজানুর রহমান (৩০), রুবেল (৩৯), সোহেল রানা (৩০), ইমন হাসান (২৮), মো. তুহিন (১৯), ইব্রাহীম খলিল (২১), মাসুদ রানা (২৪), হুমায়ুন কবির (৩৫) ও মারুফ (২৬)।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুন। এ সময় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন ও পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রস্তুত ও সরবরাহের প্রক্রিয়া চলছিল। বিষয়টি আইনগতভাবে গুরুতর হওয়ায় সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে নয়জনকে ২৪ ধারায় শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন অন্যদের একত্রিত করে এ কার্যক্রমের মূল সমন্বয় করায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রিক্তা খাতুন আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ঘোড়াগুলো দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও জামালপুরের বাসিন্দাও রয়েছেন। ঘোড়াগুলো জবাইয়ের পর মাংস প্যাকেটজাত করে সংশ্লিষ্টদের কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। পরবর্তী সময়ে এসব মাংস বিভিন্ন বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলে তারা জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে ঘোড়াগুলোকে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে হত্যা করার চিত্র পাওয়া গেছে। প্রাণীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত অমানবিক। আইন ভঙ্গের পাশাপাশি পশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন বলেন, ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। জবাই করা ঘোড়ার মাংস দ্রুত প্যাকেটজাত করে সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। ঘটনাস্থলে ঘোড়াগুলোকে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে হত্যার চিত্রও পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং জবাই করা মাংস কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।