
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) হোল্ডিং কর এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে। নাগরিকদের সহজ ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে সিসিকের নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা সিস্টেম ও নাগরিক সেবা পোর্টাল চালু করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগর ভবনের সভাকক্ষে সিসিকের নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা সিস্টেম ও নাগরিক সেবা পোর্টালের উদ্বোধন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।
নতুন এই উদ্যোগের আওতায় নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই হোল্ডিং কর ও বিভিন্ন ধরনের ফি পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরাও বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে সিসিকের কর ও ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দেশ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক সেবাও ক্রমেই সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে। নাগরিকদের সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কমিয়ে কম সময়ে সহজে সেবা নিশ্চিত করাই সিসিকের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন। নাগরিকরা সেবার বিনিময়ে যে কর প্রদান করেন, তা যাতে সহজে ও ঘরে বসেই পরিশোধ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই অনলাইন কর পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। শুধু কর পরিশোধের জন্য ব্যাংক বা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, নতুন সেবা চালুর ফলে নগরবাসী কার্ড কিংবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হোল্ডিং কর ও বিভিন্ন ধরনের ফি পরিশোধ করতে পারবেন। একই সুবিধা পাবেন দেশের বাইরে অবস্থানরত সিলেটের প্রবাসীরাও।
তিনি বলেন, কর পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ হলে নাগরিকদের মধ্যে কর প্রদানের আগ্রহ বাড়বে। এর ফলে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নাগরিক সেবাকে আরও আধুনিক ও সমন্বিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি অ্যাপের আওতায় বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নতুন পোর্টালে মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে নিজের হোল্ডিং যুক্ত করলে নাগরিকরা মালিকের নাম, গৃহের বিবরণ, বার্ষিক মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন বছরের বকেয়া করের তথ্য দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে অনলাইনে বিল প্রিন্ট ও কর পরিশোধের সুবিধাও পাওয়া যাবে। সেবাটি ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।
হোল্ডিং কর পরিশোধের ক্ষেত্রে বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়সহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, ভিসা ও মাস্টারকার্ডসহ দেশি-বিদেশি কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং বাংলা কিউআর স্ক্যানের সুবিধা রাখা হয়েছে। কর পরিশোধ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকের মোবাইল ফোনে বাংলায় এসএমএসের মাধ্যমে ই-রসিদ পাঠানো হবে। তবে ব্যাংক কাউন্টারে কর পরিশোধের প্রচলিত ব্যবস্থাও আগের মতো চালু থাকবে।
পোর্টালে চলতি বছরের বিলের পাশাপাশি আগের বছরগুলোর বিল ও পরিশোধের তথ্যও দেখা যাবে। প্রয়োজনে পুরোনো রসিদ পুনরায় প্রিন্ট করার সুযোগ থাকবে। এছাড়া কর মূল্যায়ন নিয়ে কোনো নাগরিকের আপত্তি থাকলে তা অনলাইনেই দাখিল করা যাবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন এবং আইটি কনসালটেন্ট মো. সাদাত হোসেন খান।
এ সময় সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ সিসিক ও এসএসএল কমার্স পেমেন্ট গেটওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন অনলাইন সেবা চালুর ফলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং কর পরিশোধে নাগরিকদের সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্যও কর পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।