
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এর অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সোবাহান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন, শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ, শাহজাদপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আইয়ুব আলী, শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মিজানুর রহমান ও নায়েবে আমির আব্দুল মালেক সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের মধ্যে শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর লিটন, সাধারণ সম্পাদক আলামিন হোসেন, শাহজাদপুর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রাজিব আহমেদ রাসেল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম তালুকদার, শাহজাদপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজী তামিম এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে কার্যকর ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
সম্প্রতি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় জনগণেরই সন্তান। তাদের দেখভাল করার দায়িত্ব সবার। শিক্ষার্থীদের শাসনের পাশাপাশি তাদের প্রতি ভালোবাসা, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণ করারও আহ্বান জানান তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারে এবং নির্বিঘ্নে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সাংবাদিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড, শিক্ষার্থীদের সাফল্য এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও ইতিবাচক যোগাযোগ আরও জোরদার করা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সবাই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং শিক্ষা ও গবেষণার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সভায় উপস্থিত সবাই।