
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় জেলার ১৭টি থানা এলাকা থেকে মোট ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় আনা হয়। পরে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জন কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযানে মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৫২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সব মিলিয়ে বিশেষ অভিযানে মোট ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অভিযান শেষে আটক কিশোরদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে আনা হয়। এ সময় সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে সন্তানরা কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নিয়মিত কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরছে কি না—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার জন্য বলা হয়।
পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে পরিবারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম বলেন, সন্ধ্যার পর কোনো কিশোরকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে নির্জন স্থান, পরিত্যক্ত ভবন, মাঠ বা অপরাধপ্রবণ এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোরদের আড্ডা, মাদক সেবন বা মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, মোবাইল গেমিংসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিভাবকদেরও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে এবং সন্ধ্যার পর বাইরে থাকলে কী করছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের অবশ্যই নজর রাখতে হবে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশ আরও জানিয়েছে, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান, নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ কার্যক্রম সফল করতে অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।