
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় গড়ে ওঠা একটি চা আড্ডার দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তা চা-কফি ও আড্ডাকেন্দ্রিক ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য অবসর কাটানো ও বিনোদনের একটি পরিবেশ তৈরি করা।
তবে প্রশাসনের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি তাদের ঘোষিত উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জড়িয়ে পড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের সামাদের ঘাট এলাকায় গড়ে ওঠা ওই চা আড্ডাটি প্রশাসনের নজরে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ওই চা আড্ডাকেন্দ্রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পরে ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
এ ছাড়া ওই এলাকায় মাদকসেবনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চা আড্ডার স্থাপনাটি সরিয়ে দেন। পরে স্থাপনাটিতে আগুন দেওয়া হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ, ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জামিলুর রহমান, ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, বিনোদন ও অবসর কাটানোর জন্য চা-কফির দোকান বা আড্ডাকেন্দ্র গড়ে ওঠায় আপত্তি নেই। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে যাতে মাদক, অশ্লীলতা কিংবা কোনো ধরনের আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।