
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: মো. গোলাপ হোসেন
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হওয়া গুলনাহার বেগমের সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁর স্বজন ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর আলসারজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন ৯ সন্তানের জননী গুলনাহার বেগম। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার কারণে অন্যের সহযোগিতা ছাড়া তাঁর চলাফেরা করা সম্ভব ছিল না।
স্বজনরা জানান, দিনের বেলায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে থাকলেও রাতে বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা রুমি হাসপাতালে অবস্থান করতেন। নিখোঁজ হওয়ার দিন ফজরের নামাজের সময়ও গুলনাহার বেগম নিজ বেডে শুয়ে ছিলেন। মেয়ে কিছু সময়ের জন্য পাশের কক্ষে যান। প্রায় পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, তাঁর মা বেডে নেই।
এরপর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, কক্ষ ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও গুলনাহার বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালে ছুটে আসেন। দিনাজপুর শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে খোঁজ চালিয়েও তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় ওই দিনই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন স্বজনরা। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলেও গুলনাহার বেগমের কোনো দৃশ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে তাঁর নিখোঁজের সংবাদ প্রচারিত হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। এ অবস্থায় দ্রুত তাঁর সন্ধান ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে গুলনাহার বেগমের স্বামী মো. জারজিস আলী, ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম জিম, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এ সময় গুলনাহার বেগমের স্বামী মো. জারজিস আলী বলেন, “আমার স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পুরো পরিবার চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। একজন অসুস্থ মানুষ হাসপাতাল থেকে কোথায় গেলেন, তা খুঁজে বের করতে প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
নিখোঁজের ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম জিম বলেন, “আমার মা হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হয়েছেন। তাই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে তাঁর সন্ধান বের করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আমরা দ্রুত আমাদের মায়ের সন্ধান চাই।”
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মজিবর রহমান, মাওলানা সাদিকুল ইসলাম ও সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. লিটন।
বক্তারা দ্রুত গুলনাহার বেগমের সন্ধান বের করে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।