
বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বনফুর এলাকার অংহ্লারী পাড়ায় দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। প্রায় ৪ শতাধিক মানুষের বসবাসের এই পাড়ায় নিরাপদ পানির নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস নেই। একমাত্র নলকূপটিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়ায় সেটি পরিত্যক্ত হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে পার্শ্ববর্তী খালের পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে পাড়াবাসীকে।
পানীয় জল, রান্নাবান্না ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নিরাপদ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতিটি আরও উদ্বেগজনক। খালের পানি পান করার উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত না হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলার অন্যতম বৃহৎ ইউনিয়ন ফাঁসিয়াখালীর ইয়াংছা-বনফুর এলাকার বিভিন্ন জনপদ দীর্ঘদিন ধরেই নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলেও দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলোর অনেকটাই এখনো সমাধান হয়নি। অংহ্লারী পাড়ায় নিরাপদ পানির সংকট এরই একটি উদাহরণ।
পাড়াবাসীর অভিযোগ, চার শতাধিক মানুষের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের বাধ্য হয়ে খালের পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। অপরিশোধিত খালের পানি পান ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহারের ফলে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অথচ দীর্ঘদিনেও তাঁদের জন্য নিরাপদ পানির বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।
অংহ্লারী পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত একটি গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) স্থাপন করে নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হোক। এ জন্য তাঁরা সরকার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তাঁদের মতে, নিরাপদ পানি কোনো বিলাসিতা নয়, বরং মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। অংহ্লারী পাড়ার চার শতাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।