
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কান্ঠাপাড়া বাজারে দুর্গামণ্ডপের বিদ্যুৎ সংযোগের ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে কান্ঠাপাড়া বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কুমার রায়কে (৪৫) পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কান্ঠাপাড়া বাজারে তাঁর নিজস্ব গ্রিলের দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাঁকে উদ্ধার করে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহত কৃষ্ণ কুমার রায় বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বীরেন কুমারের ছেলে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুর্গামণ্ডপে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত জেনারেটরের ক্যাবল বাজারের একটি কাঠের দোকানের সামনে থাকা কাঁঠালগাছে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে আপত্তি জানান কাঠের দোকানদার কবির। বিষয়টি নিয়ে কৃষ্ণ কুমার রায়ের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কৃষ্ণ কবিরকে ঘুষি মারেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিকেলে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলে দুই পক্ষকে শান্ত করেন। তবে এর কিছুক্ষণ পর কৃষ্ণ কুমার রায় নিজের দোকানে ফিরে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি লোহার রড ও কাঠ দিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী এলেম কাজী জানান, তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আহত কৃষ্ণকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
হরিরামপুর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাজারের ব্যবসায়ী স্বপন কুমার রায় বলেন, “ক্যাবল রাখা নিয়ে বিরোধের পরই কৃষ্ণের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। কারা হামলা করেছে, তা নিশ্চিত নই। তবে আগের বিরোধের সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে।”
হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনিমেষ জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় কৃষ্ণ কুমার রায়কে হাসপাতালে আনা হলে তাঁর মাথায় কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কান্ঠাপাড়া বাজার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মিরাজ মেম্বার জানান, ঘটনাটি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জয়নাল আবেদিন জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে এম তৌফিক আজম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”