
মোঃ গোলাম মোস্তফা,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকার অনুমোদিত ডিএপি সার গোপনে পাচারের সময় ২০ বস্তা সারসহ একটি অটোরিকশা আটক করা হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সোনাহাট ব্রিজপাড় এলাকায় সার্কেল এএসপির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে স্থানীয় জনতার সহায়তায় এ সার উদ্ধার করা হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাহাট ইউনিয়নের বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলার শ্রী নিতাই চন্দ্র সাহা (পিতা: মৃত হিরালাল সাহা) তার গুদাম থেকে কৃষকদের মাঝে বিতরণ না করে গোপনে একটি অটোরিকশাযোগে সার পাচার করছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় জনতার মাধ্যমে অটোরিকশাটি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। এ সময় অটোরিকশা থেকে বিএডিসির বরাদ্দকৃত ২০ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়।
পরে উদ্ধারকৃত সার ও অটোরিকশা চালককে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক অটোরিকশা চালকের নাম মোঃ রুবেল মিয়া (২৮)। তিনি আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ককাটা গ্রামের বাদশাহ মিয়ার ছেলে।থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সার ডিলার নিতাই চন্দ্র সাহার পক্ষ থেকে মোঃ আবুল হোসেন ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বর্তমানে অটোরিকশা চালককে আটক দেখানো হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর আগেও সার কেলেঙ্কারির ঘটনায় ঐ ডিলারের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে এই ডিলার প্রতিনিধি পরিবারের বাড়ি ভূরুঙ্গামারী হলেও তিনি আন্ধারিঝাড় ইউনিয়ন, সোনাহাট ইউনিয়ন ও চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সরকার কর্তৃক কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার সঠিকভাবে বিতরণ না করে কিছু অসাধু ডিলার কৃষি অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে নিয়মিত কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করে আসছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।কৃষকরা অবিলম্বে জড়িত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল জব্বার বলেন, “সার আটকের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে এবং আটককৃত সার বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে।