
রাজশাহী ব্যুরো: বগুড়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়া ‘ক’ সার্কেলের একটি আভিযানিক দল। অভিযানে তাদের কাছ থেকে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় বগুড়া সদর উপজেলার চকসূত্রাপুর, চামড়াগুদাম ও রেলস্টেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসম ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ২০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কাহালু থানার সিববাটি গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে মোঃ বকুল হোসেন (৩০), বগুড়া সদর থানার ইসলামপুর হরিগাড়ী এলাকার আব্দুর ছাত্তারের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২৮), একই থানার গোদারপাড়া এলাকার মৃত মোবারক আলীর ছেলে লিটন আলী (২৮), কালিতলা এলাকার হামিদুর রহমানের ছেলে আনিসুল আশিক (২৫), বৃন্দাবন দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত ইব্রাহিমের ছেলে সাজু (২৭), মালতিনগর এলাকার টুনুর ছেলে রনি (২৮), চকদূর্গা এলাকার হয়রত আলীর ছেলে আতিকুল আকন্দ (২৮), বৌবাজার এলাকার পুটু শেখের ছেলে সেলিম শেখ (২৫), এবং ফাপড় মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল রশিদের ছেলে লিমন ফকির (৩৫)।
ডিএনসি বগুড়া ‘ক’ সার্কেলের একটি আভিযানিক দল বগুড়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক-এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ৯ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের আদেশে ১ থেকে ৪ নম্বর আসামিকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং ৫ থেকে ৯ নম্বর আসামিকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ঘটনাস্থলেই বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসওয়ার তানজামুল হক বলেন,“মাদক সমাজের জন্য একটি মারাত্মক অভিশাপ। যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
ডিএনসি বগুড়া জেলার উপপরিচালক জিললুর রহমান বলেন,“বগুড়া জেলাকে মাদকমুক্ত করতে ডিএনসি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন,“জনসচেতনতা ও আইন প্রয়োগ—এই দুইয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমেই মাদক নির্মূলে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”