
মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের পর হত্যার সন্দেহ, তদন্তে পুলিশ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় একটি আখক্ষেত থেকে তমেজুল ইসলাম (৪৬) নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহ আখক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে যেতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের একটি আখক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তমেজুল ইসলাম পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দেওর শৌলাহাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে তমেজুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলযোগে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ গ্রাম আটুলের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
পরদিন শনিবার সকালে বীরনগর এলাকার একটি আখক্ষেতে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পাঁচবিবি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় নিহতের স্বজনরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি তমেজুল ইসলামের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহসহ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে।
এদিকে তমেজুল ইসলামের মৃত্যুর খবর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সেখানে স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
পাঁচবিবি থানার ওসি-তদন্ত মোকলেছুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তমেজুল ইসলামের গতিবিধি ও তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।