
কিশোরগঞ্জে ক্ষুদ্র বেকারি শিল্প রক্ষায় পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জেলার বেকারি মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার কারণে ক্ষুদ্র বেকারি শিল্প ক্রমেই সংকটের মুখে পড়ছে—এমন দাবি তুলে শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়া বাজার ব্রিজ সংলগ্ন বিজয় চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার বেকারি মালিক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলায় দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য ক্ষুদ্র বেকারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার মানুষ জড়িত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বেকারি পণ্যের উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে।
তাদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারে পণ্যের দাম সেই অনুপাতে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক ক্ষুদ্র বেকারি প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে। একদিকে কাঁচামাল ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাজারে অসম প্রতিযোগিতার কারণে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, জেলার শতাধিক ক্ষুদ্র বেকারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নানা ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নীতিগত সুবিধা না পেলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে শুধু উদ্যোক্তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও তাদের পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়বে।
মানববন্ধন থেকে ক্ষুদ্র বেকারি শিল্পকে একটি সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাত হিসেবে বিবেচনা করে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা পূরণে ক্ষুদ্র বেকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ সময় বেকারি মালিকদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেকারি শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সহনীয় পর্যায়ে রাখা, গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল শিল্পহারে নির্ধারণ, সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা, বিএসটিআই লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লাইসেন্স ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে হয়রানি বন্ধ করা।
বক্তারা বলেন, কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পক্ষে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে শিল্পহারে গ্যাস ও বিদ্যুতের সুবিধা দেওয়া হলে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ পেলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যবসায় নতুন করে বিনিয়োগ ও প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে পারবেন।
বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করার দাবিও জানান বেকারি মালিকরা। তাদের ভাষ্য, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য লাইসেন্স ও অনুমোদনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করা হলে তারা নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনায় আরও উৎসাহিত হবেন।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সাব্বির আহমেদ, সহ-সভাপতি মো. বাচ্চু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল আহমেদসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষুদ্র বেকারি শিল্পের বর্তমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেলে জেলার অনেক ক্ষুদ্র বেকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এতে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বেকারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে।
মানববন্ধন শেষে বেকারি মালিকদের পক্ষ থেকে তাদের পাঁচ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ক্ষুদ্র বেকারি শিল্প রক্ষায় সরকারের নীতিগত সহায়তা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।