
জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিলে নতুন সৌন্দর্য, তরুণ সাংবাদিকের উদ্যোগে বৃক্ষায়নে বদলে যাচ্ছে পর্যটন পরিবেশ
ফয়ছল আহমদ নুমান।
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার লাল শাপলা বিল এখন আরও মোহনীয় ও মনোরম। তরুণ সাংবাদিক রেজওয়ান করিম সাব্বিরের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত “তরুছায়া বনায়ন প্রকল্প” এই বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যুক্ত করেছে এক নতুন মাত্রা। একসময় যেখানে প্রচণ্ড রোদ, কর্দমাক্ত পথ আর অস্বস্তিকর পরিবেশের কারণে পর্যটকদের বেশি সময় অবস্থান করা কঠিন ছিল, এখন সেখানে বিরাজ করছে ছায়াঘেরা নির্মল পরিবেশ।
২০১৭ সালে সাব্বিরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রথম বৃক্ষ ভিক্ষার মাধ্যমে রাস্তার দু’পাশে গাছ লাগানো শুরু হয়। ধীরে ধীরে তার এই মানবিক প্রচেষ্টা সম্প্রসারিত হতে থাকে। এরপর জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন এবং থানার ওসি শ্যামল বনিক আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন ইউএনও নুসরাত আজমেরী হক ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করে প্রকল্পটিকে “তরুছায়া” সামাজিক বনায়ন হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং জৈন্তা ফটোগ্রাফি সোসাইটিকে চুক্তিভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করেন।
বর্তমানে শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, কদম, সোনালু, বেলজিয়াম, তালগাছ, অজুন, বটবৃক্ষ, জারুল, হিজলসহ নানা প্রজাতির গাছ রাস্তার দু’পাশে শোভা ছড়াচ্ছে। পর্যটকরা ছায়ার নিচে দীর্ঘ সময় বিশ্রাম নিয়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন। এর ফলে লাল শাপলা বিল দ্রুতই একটি আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকায় পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষেরা এই উদ্যোগকে ভীষণ প্রশংসা করছেন। ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, “বৃক্ষায়ন হওয়ায় আমরা ছায়ায় বসে ব্যবসা করতে পারছি। পর্যটকরাও আরামে ঘোরাফেরা করতে পারছে।”
ব্যবসায়ী নূরুজ্জামান জানান, “অসংখ্য অর্থশালী মানুষ যা করেনি, সাংবাদিক সাব্বির তা করে দেখিয়েছেন। কিছু লোক ব্যক্তিগত কারণে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”
তামাবিল স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মিছবাহুল আম্বিয়া বলেন, “বনে-জঙ্গলে গাছ লাগানো সরকারি দায়িত্ব হলেও এখানে একজন সাংবাদিক ব্যক্তিগত মানবিক উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষার কাজ করছেন। এটি প্রশংসনীয়।”
তবে সম্প্রতি একটি মহল শাপলা বিলের পরিবেশ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সাব্বির এসব অপপ্রচার উপেক্ষা করে বলেন—
“২০১৫ সালে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে লাল শাপলা বিলের সৌন্দর্য তুলে ধরা ছিল আমাদের প্রথম কাজ। তখন রাস্তায় কোনো গাছ ছিল না। এখন মানুষ ছায়ায় দাঁড়িয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছে। অপপ্রচারকারীদের বিষয়ে প্রশাসন সরজমিন তদন্ত করলেই সত্যতা পাওয়া যাবে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ-সচেতন মহলকে এই বিলে পরিবেশ রক্ষা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে লাল শাপলা বিল ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে— এমনই আশা স্থানীয়দের।