
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
হিমালয়ের পাদদেশের নিকটবর্তী সীমান্তঘেঁষা উপজেলা লালমনিরহাটের আদিতমারীতে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা। কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা নিম্নমুখী থাকায় এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ার প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
লালমনিরহাট আদিতমারী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ প্রায় ৯৯ শতাংশ থাকায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে সারাদিনই কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আদিতমারী উপজেলার সদর এলাকা ছাড়াও স্বর্ণামতি, সুতি ও তিস্তা নদী অববাহিকার চরাঞ্চলগুলোতে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। তীব্র ঠান্ডায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষজন সময়মতো কাজে বের হতে পারছেন না। জীবিকার তাগিদে বের হওয়া অটোরিকশা ও ভ্যানচালকদের রাস্তার মোড়ে মোড়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
শীতের প্রভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি গবাদিপশুগুলোও শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে, অনেক খামারি পশুদের রক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে শীতার্ত মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদার করার আহ্বান জানান।