
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী বলেছেন, মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দ্বীনি জ্ঞানচর্চার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়, তার একটি উত্তম দৃষ্টান্ত হচ্ছে হাদীস মুখস্থকরণসহ বিভিন্ন দ্বীনি জ্ঞানার্জনের প্রতিযোগিতার আয়োজন।
তিনি বলেন, অনেকেই মীলাদুন্নবী (সা.)-এর মাসে হাদীস মুখস্থ করার উদ্যোগ গ্রহণ করছেন এবং যারা হাদীস মুখস্থ করছেন, তাদের পুরস্কৃতও করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই উপকৃত হচ্ছেন না, বরং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও অনেক হাদীস মুখস্থ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এর ফলে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদীসের প্রচার ও প্রসারের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঈসায়ী, রবিবার, ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া রাখালগঞ্জ দারুল কুরআন ফাযিল মাদরাসা শাখা ও মাদরাসা ছাত্র সংসদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মুবারক র্যালি’র পূর্ববর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদরাসার কনফারেন্স হলে সকাল ১১টা থেকে যুহরের পূর্ব পর্যন্ত এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদ যুহর মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে একটি মুবারক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি রাখালগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মাদরাসা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী বলেন, ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.)-কে কেন্দ্র করে রাসূল (সা.)-এর হাদীসের প্রচার ও প্রসারের এমন সুযোগ সৃষ্টি হওয়া আল্লাহর শুকরিয়ার বিষয়। তাই মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিভিন্ন নেকীর কাজের মাধ্যমে এ দিনকে উদযাপন করা হলে এর মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ উপকৃত হবে এবং দ্বীনি কাজের প্রসারে এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বীনি জ্ঞানার্জনের আগ্রহ তৈরি হয়। বিশেষ করে হাদীস মুখস্থ করার প্রতিযোগিতা একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে, অন্যদিকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী ও আদর্শ সম্পর্কে তাদের জানার সুযোগ করে দেয়। তিনি বলেন, সারা বিশ্বব্যাপী এভাবেই মীলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হচ্ছে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আল্লাহর হাবীবের শান ও মর্যাদার যে বর্ণনা পবিত্র কুরআনে এসেছে, তা আলোচনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোতেও আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর আগমনের বিষয়ে যে আলোচনা রয়েছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআন কারীমের বিভিন্ন আয়াতে তা উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, হাদীসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, আহলে কিতাবের অনেক পণ্ডিত পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বর্ণিত রাসূল (সা.)-এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং সেসব বর্ণনা তাদের ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রেখেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর হাবীবকে অসংখ্য বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত মাহফিলগুলোতে এসব বিষয় আলোচনা করা প্রয়োজন, যাতে মুসলমানরা রাসূল (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও চরিত্র সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজেদের জীবনে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুরুল করিম মহসিন।
রাখালগঞ্জ দারুল কুরআন ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ শেহাব উদ্দিন আলীপুরীর সভাপতিত্বে এবং মাদরাসার আরবী প্রভাষক মাওলানা শিহাবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট পশ্চিম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আহকামুল ইসলাম বুলবুল, রাখালগঞ্জ দারুল কুরআন ফাযিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রউফ এবং দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভা শেষে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত মুবারক র্যালিতে অংশ নেন উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। র্যালির মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও শিক্ষা মানুষের মাঝে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।