
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী মনসা পূজাকে ঘিরে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। পূজাকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকায় চলছে নানা আয়োজন। কোথাও প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে, আবার কোথাও চলছে পূজামণ্ডপ সাজসজ্জার প্রস্তুতি।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচার অনুযায়ী ভাদ্র মাসের শেষ দিনে নাগদেবী মা মনসার পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব থেকে রক্ষা এবং পরিবারের সুখ-শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত মনসা পূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে। শ্রাবণ সংক্রান্তি ও নাগপঞ্চমী তিথিতেও বিভিন্ন স্থানে বিশেষভাবে এ পূজা উদযাপন করা হয়।
পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা স্কুল মাঠে আগামীকাল শনিবার মনসা পূজা ও ঐতিহ্যবাহী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে পূজামণ্ডপে ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শিল্পীর নিপুণ তুলির আঁচড়ে রঙিন হয়ে উঠেছে মা মনসা, ভগবান শিবসহ অন্যান্য দেব-দেবীর প্রতিমা। পূজাকে ঘিরে আয়োজক ও স্থানীয়দের মধ্যে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
মনসা পূজাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত মেলা গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ ধরনের মেলায় বিভিন্ন ধরনের মৃৎশিল্প, বাঁশ ও সোলার তৈরি সামগ্রী, খেলনা ও নানা লোকজ পণ্যের পসরা বসে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পুতুল নাচ, মনসামঙ্গল গানসহ লোকজ সংস্কৃতির নানা আয়োজন মানুষের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবারও বাগজানা স্কুল মাঠের পূজা ও মেলায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হবে। পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও বিভিন্ন ধরনের দোকান ও পণ্যের পসরা সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে মনসা পূজা ও মেলা সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থী ও পূজারীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পাঁচবিবি থানার ওসি মো. তামবিরুল ইসলাম বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মনসা পূজা ও মেলা উদযাপনে পুলিশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকবে।