
লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ছয়জন কর আদায়কারীকে পুলিশ থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের কথা বলে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থের বিপরীতে যথাযথ রসিদ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
এক নারী ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, তিনি দরিদ্র এবং ভিক্ষা করে সংসার চালান। তাঁর তিনটি কক্ষের জন্য ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি ৯০০ টাকা দিলেও এর বিপরীতে কোনো কাগজ বা রসিদ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, টাকা না দিলে সন্তানদের লেখাপড়া কিংবা চাকরির ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে—এমন ভয় দেখানো হয়েছে।
আরেক বৃদ্ধ জানান, প্রথমে তাঁর কাছে কয়েক বছরের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্সের কথা বলা হয়। পরে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করা হলে দর-কষাকষির পর তিনি ২৩০ টাকা পরিশোধ করেন এবং একটি রসিদ পান। বিষয়টি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও তাদের মধ্যে অস্পষ্টতা রয়েছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এদিকে কর আদায়ের কাজে যুক্ত একজন ব্যক্তি নিজেকে মোহাম্মদ আব্দুল আলিম পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে গোকুন্ডা ইউনিয়নে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর দাবি, আদায়কৃত অর্থের হিসাব নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। তবে ঘটনার দিন সকালে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের নির্দেশে তাঁরা মাঠে না গিয়ে পরিষদের একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।
অভিযোগ ও উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ছয়জন কর আদায়কারীকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গোকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি হার, কর আদায়কারীদের নিয়োগের বৈধতা এবং ছয়জনকে থানায় নেওয়ার বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে সংবাদটি পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ করা হবে।