
প্রেমের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার ভৌগোলিক দূরত্ব পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশের লালমনিরহাটে ছুটে এসেছেন এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা ভালোবাসাকে সার্থক করতে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক কিম হিউন সু বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন লালমনিরহাটের তরুণী জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়ার সাথে।
জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা রেলগেট সংলগ্ন পাঙ্গাটারী এলাকার বাসিন্দা মোঃ আফজাল হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়া। তিনি বর্তমানে লালমনিরহাট সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগে অনার্সে অধ্যয়ন করছেন। বেশ কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের (সোশ্যাল মিডিয়া) মাধ্যমে মারিয়ার সাথে কোরিয়ান যুবক কিম হিউন সু-এর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গভীর প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার আগে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক কিম হিউন সু স্থানীয় একটি মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ধর্মীয় ও আইনি বিধান মেনে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
এদিকে দূরপ্রাচ্যের দেশ থেকে এক যুবকের লালমনিরহাটে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও স্থানীয় তরুণীকে বিয়ে করার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নবদম্পতিকে একনজর দেখতে এবং তাদের শুভেচ্ছা জানাতে মারিয়াদের বাড়িতে উৎসুক জনতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে। ব্যতিক্রমী এই বিয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এখন বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভালোবাসার টানে ভিনদেশ থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসে, ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের মতো ঘটনা এই এলাকায় বিরল। ফলে কিম হিউন সু ও মারিয়ার এই অনন্য প্রেমের গল্প এখন সবার মুখে মুখে ফিরছে।
নবদম্পতির পরিবারের সদস্যরা তাদের সুখী ও সুন্দর ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সকলের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।
ভাষা, সংস্কৃতি ও হাজার মাইলের ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে গড়ে ওঠা এই বিয়ে আবারও প্রমাণ করলো— সত্যিকারের ভালোবাসা কোনো কাঁটাতারের সীমান্ত বা দূরত্বের দেয়াল মানে না।