
ঢাকার আশুলিয়ায় সোহাগ (২৫) নামে এক উদীয়মান কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উত্তরাঞ্চলের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘তালেব ভাইজান’খ্যাত তালেব আলীর ভাতিজা। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশুলিয়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে নিয়ে আশুলিয়ার ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। রোববার দুপুরে নিজ কক্ষে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে মরদেহ নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে সোহাগের মৃত্যু ঘিরে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর আগের সময়ের বিভিন্ন ঘটনা এবং স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত্যুর ঠিক আগের দিন ৫ সেপ্টেম্বর স্ত্রী কামরুন নাহার কাজলের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন সোহাগ। সেখানে তিনি স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তাদের একসঙ্গে সারাজীবন থাকার ইচ্ছার কথা জানান।
পোস্টে সোহাগ লেখেন, “তোমার Birthday আমার কাছে তেমনই special যেমনটা তুমি আমার কাছে special… সত্যিই বলতে ভালোবাসা কী জিনিস সেটা তোমায় না দেখলে বুঝতাম না। সৌভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে আমি তোমার মতন একটা Caring লাইফ পার্টনার পেয়েছি। সারাজীবন একসাথেই তোমাকে নিয়ে বৃদ্ধ হতে চাই… নিরানব্বই বার ঝগড়ার পরেও শতবারের সময় আমার।”
স্ত্রীর জন্মদিনে এমন আবেগঘন বার্তা দেওয়ার পরের দিনই সোহাগের মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার ওই পোস্টের শেষাংশে দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধের ইঙ্গিত ছিল কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
ঘটনার পর সোহাগের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সায়েম একান্ত ফোনালাপে মৃত্যুর কারণ নিয়ে একটি দাবি করেছেন। তার দাবি, মৃত্যুর আগে সোহাগের স্ত্রী কাজল তাকে জানিয়েছিলেন—“আমার পেটে থাকা সন্তান তোমার নয়।”
সায়েমের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর এমন কথায় সোহাগ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং এর পরেই তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বন্ধুর এই বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সোহাগের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—দাম্পত্য জীবনের কোনো বিরোধ, মানসিক চাপ, নাকি অন্য কোনো বিষয়—তা এখনো স্পষ্ট নয়। এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যই চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সোহাগের চাচা ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তালেব ভাইজান জানান, তিনি একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সোহাগের মৃত্যুর খবর পান। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তিনি জানেন না বলেও জানান।
তিনি বলেন, “আমি দিনাজপুরে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে সোহাগের মৃত্যুর খবর পাই। কী কারণে সে আত্মহত্যা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানি না।”
সোহাগের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।