
“পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সুস্থ জীবন”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬-এর অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ উপলক্ষে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা আবু সাজ্জাদ মো. সায়েম, ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল, যুগ্ম আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন তৌহিদ, উপজেলা যুবদল সভাপতি রফিকুল ইসলাম শান্তসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত রোগ এবং এর প্রধান বাহক এডিস মশা। এ রোগ প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না; একই সঙ্গে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির আশপাশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, বাজার, নির্মাণাধীন ভবন ও অন্যান্য স্থানে কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।
পরিত্যক্ত পাত্র, পুরোনো টায়ার, ডাবের খোসা, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, বিভিন্ন ধরনের বোতল কিংবা এমন কোনো জায়গা যেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে—সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার প্রজননস্থল অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ করে নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; পরিচ্ছন্নতার এই অভ্যাসকে নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত করতে হবে। বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলের স্থানগুলোও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর উপজেলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়।
এ সময় উপজেলা পরিষদ ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। তারা বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেন।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, কোনো পাত্রে পানি জমতে না দেওয়া এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যদি নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন এবং বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেন, তাহলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও ডেঙ্গুমুক্ত ভূরুঙ্গামারী গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।