
দীর্ঘ এক বছর। একজন রানারের জন্য এই সময়টা শুধু দৌড় থেকে দূরে থাকার সময় নয়; বরং নিজের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে ফিরে আসার এক কঠিন অধ্যায়।
রানিং ট্র্যাকের পরিচিত মুখ ও তরুণ চিকিৎসক ডা. মো. নাফিজুর আলম ইনজুরির কারণে দীর্ঘ এক বছর ছিলেন দৌড়ের জগৎ থেকে দূরে। যে পা একসময় ছুটে বেড়িয়েছে অসংখ্য কিলোমিটার, সেই পা-ই একসময় তাকে থামিয়ে দিয়েছিল। থেমে গিয়েছিল নিয়মিত অনুশীলন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং ট্র্যাকের সেই পরিচিত ছন্দ।
তবে একজন সত্যিকারের রানারের গল্প শুধু দৌড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখনো কখনো থেমে যাওয়াটাও হয়ে ওঠে নতুন করে শুরু করার প্রস্তুতি।
ইনজুরি ডা. নাফিজকে ট্র্যাক থেকে দূরে সরিয়ে দিলেও তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। দীর্ঘ পুনর্বাসন, ধৈর্য, মানসিক শক্তি এবং নিজের প্রতি বিশ্বাসকে সঙ্গী করে তিনি ধীরে ধীরে ফিরেছেন স্বাভাবিক জীবনে। প্রতিটি দিন ছিল নিজের শরীর ও মনের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়ার দিন।
চিকিৎসাশাস্ত্রের কঠিন পথ পেরিয়ে নিজের পেশাগত জীবনে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের পাশাপাশি নাফিজের হৃদয়ে সবসময়ই বেঁচে ছিল দৌড়ের প্রতি সেই পুরোনো ভালোবাসা। ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝেও রানিং ট্র্যাকের স্মৃতি তাকে বারবার টেনে নিয়েছে সেই জায়গায়, যেখানে তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন নিজের অন্য এক পরিচয়।
দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকার হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে Turkish Airlines ActivePulse International Half Marathon 2026। আর এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই আবারও প্রতিযোগিতামূলক দৌড়ের জগতে ফিরছেন ডা. মো. নাফিজুর আলম।
এক বছর পর ট্র্যাকে তার এই প্রত্যাবর্তন নিছক একটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নয়; বরং এটি তার কাছে নিজের হারিয়ে যাওয়া ছন্দ ফিরে পাওয়ার একটি বিশেষ মুহূর্ত।
একজন রানারের কাছে ট্র্যাক শুধু একটি দৌড়ের জায়গা নয়। এখানে থাকে অসংখ্য স্মৃতি, ঘাম, পরিশ্রম, ব্যর্থতা, সাফল্য এবং নিজের সীমাকে অতিক্রম করার গল্প। তাই দীর্ঘ এক বছর পর সেই ট্র্যাকে ফিরে আসা নাফিজের জন্য নিঃসন্দেহে আবেগেরও একটি মুহূর্ত।
ইনজুরির সময়টা তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য ধরতে। শিখিয়েছে, শরীর কখনো কখনো থেমে যেতে পারে, কিন্তু স্বপ্নকে থামিয়ে দেওয়া যায় না। পুনর্বাসনের প্রতিটি ধাপ, ধীরে ধীরে অনুশীলনে ফেরার প্রতিটি মুহূর্ত এবং নিজের সক্ষমতার ওপর নতুন করে বিশ্বাস তৈরি করা—সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয়েছে তার এই প্রত্যাবর্তনের গল্প।
চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সুস্থতার জন্য কাজ করেন ডা. নাফিজ। আর একজন রানার হিসেবে তিনি জানেন, শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের জীবনেই যেন সেই অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রয়োগ ঘটেছে তার এই ফিরে আসার যাত্রায়।
দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম প্রতিযোগিতায় নামার আগে হয়তো আগের মতো গতি কিংবা পারফরম্যান্সই একমাত্র লক্ষ্য নয়। বরং এবার সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে আবারও стартিং লাইনে দাঁড়ানো, নিজের পরিচিত ট্র্যাককে ফিরে পাওয়া এবং দৌড়ের প্রতি ভালোবাসাকে নতুন করে উদযাপন করা।
১৮ সেপ্টেম্বর হাতিরঝিলের ট্র্যাকে তাই ডা. নাফিজের দৌড় হবে শুধু সময়ের বিরুদ্ধে দৌড় নয়; এটি হবে এক বছরের অপেক্ষা, সংগ্রাম ও প্রত্যাবর্তনের গল্প।
হয়তো এবার লক্ষ্য শুধু ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া নয়। লক্ষ্য নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন করে শুরু করা। লক্ষ্য প্রমাণ করা—একজন রানারকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু তার স্বপ্নকে থামিয়ে দেওয়া যায় না।
দীর্ঘ এক বছর পর আবারও যখন ডা. নাফিজের পা ছুটবে হাতিরঝিলের পথে, তখন সেই দৌড়ে মিশে থাকবে অপেক্ষার গল্প, ইনজুরি কাটিয়ে ওঠার গল্প, ধৈর্যের গল্প এবং নিজের স্বপ্নের কাছে ফিরে আসার গল্প।
এক বছর পর আবারও ট্র্যাকে ফিরছেন ডা. মো. নাফিজুর আলম—এবার নতুন উদ্যমে, নতুন প্রত্যয়ে, নতুন শুরুর লক্ষ্যে।