
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সীমান্ত ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এক নবজাতকের মাথা কেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কচাকাটা থানার সদর ইউনিয়নের খামারটারী এলাকার বাসিন্দা মো. আলম মিয়ার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাইলী বেগম (২৬) গত ৫ জুন বিকেলে প্রসববেদনা নিয়ে সীমান্ত ক্লিনিকে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জরুরি সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেয়।
পরিবারের অভিযোগ, নির্ধারিত চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য একজন চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার করানো হয়। অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত নবজাতকের মাথার ডান পাশে কেটে যায় এবং পরে সেখানে সেলাই দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর নবজাতকের মাথায় ব্যান্ডেজ ও সেলাই দেখতে পেয়ে স্বজনরা বিষয়টি জানতে চাইলে তারা সন্তোষজনক কোনো জবাব পাননি বলে দাবি করেন।
পরিবার আরও অভিযোগ করে, নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা তদারকি পাওয়া যায়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে রেফার করার অনুরোধ জানানো হলেও প্রথমদিকে তা করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার (৭ জুন) নবজাতকের পিতা মো. আলম মিয়া ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ক্লিনিক পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে।
ভূরুঙ্গামারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলী-উল-হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নবজাতক ও তার মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক কে. এম. রায়হান-উল-ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অপারেশনের সময় নবজাতকের মাথা কেটে যাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে। তবে পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।