
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জিয়ানগর (বান্দাইল) গ্রামে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত মো. রাজিব হোসেনের (৪১) স্ত্রী সৌরোপা (৩৯) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি জানান, মঙ্গলবার নিহতের স্ত্রী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার দত্তখন্ড গ্রামের বাসিন্দা রাজিব হোসেন কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৭ জুন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাতের খাবার শেষে চা পান করার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরদিন সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের জিয়ানগর (বান্দাইল) গ্রামের বাসিন্দা হাকিম আলীর বাড়িতে রাজিবকে চোর সন্দেহে আটক করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ৮ জুন রাত আনুমানিক ২টার দিকে স্থানীয় ১০০ থেকে ১৫০ জন উত্তেজিত ব্যক্তি হাকিম আলীর বাড়িতে জড়ো হয়ে রাজিবের হাত-পা ও চোখ বেঁধে গণপিটুনি দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহতের পরিবারের দাবি, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
অন্যদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার রাতে হাকিম আলীর বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, রাজিব হোসেন ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তার কয়েকজন সহযোগী বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘর থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার বের করে সহযোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সময় গৃহকর্তা বিষয়টি টের পান। বাধা দিতে গেলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে আহত হাকিম আলীকে প্রথমে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
গৃহকর্তার পরিবারের দাবি, চুরির অভিযোগে আটক হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা রাজিবকে মারধর করে, এতে তার মৃত্যু হয়। তারা আরও দাবি করেন, রাজিবের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক চুরি ও ডাকাতি মামলার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজিবকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না তুলে দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যা সরাসরি হত্যাকাণ্ডের শামিল। এ কারণেই তারা বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন,
“হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ঘটনাটির সবদিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”