
মো. গোলাম মোস্তফা,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ।। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তবর্তী জনবহুল এলাকা জয়মনিরহাট ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধ এবং যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষার দাবিতে বিশাল মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জয়মনিরহাট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রধান সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনের আয়োজন করে জয়মনিরহাট ইউনিয়ন যুব সমাজ ও জয়মনিরহাট সচেতন যুব সমাজ।
“মাদককে না বলুন, সুস্থ ও সুন্দর জীবন গড়ুন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান এবং জয়মনিরহাটসহ পুরো এলাকাকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানান।
জয়মনিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মণ্ডল, উপজেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য কাজী নিজাম উদ্দিন, এনসিপির উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণ, জয়মনিরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজিম উদ্দিন, জয়মনিরহাট মহিউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম ফজলুল হক, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মিজানুর রহমান, ওলামা পরিষদের নেতা নজরুল ইসলাম, যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব এবং বণিক সমিতির নেতা শাহজালাল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতার কারণে তরুণ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। মাদকের ভয়াবহ ছোবলে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদক নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এলাকার মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। তারা সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার বন্ধে নজরদারি বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।
মানববন্ধনের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আমিন।
কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, যুবসমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারে নৈতিক শিক্ষা এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে এমন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা জানান।