
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বৈধ সনদ ছাড়াই টেকনোলজিস্ট দিয়ে প্যাথলজি ও এক্স-রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে রোগীদের সঠিক ও নির্ভুল রিপোর্ট পাওয়া এবং নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবে রক্ত, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে এক্স-রে কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের সঙ্গে নাছির উদ্দিন ও কাইয়ুম মোল্লা নামে দুজন যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, নাছির উদ্দিন প্যাথলজিস্টের প্যাডে স্বাক্ষর ব্যবহার করে রোগীদের পরীক্ষার রিপোর্ট সরবরাহ করছেন। তবে এসব রিপোর্ট প্রস্তুত ও স্বাক্ষর করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পরীক্ষার ফলাফলে কোনো ধরনের ভুল বা ত্রুটি থাকলে রোগীর রোগ নির্ণয় ও পরবর্তী চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অনুমোদন ছাড়া কেউ রোগ নির্ণয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করলে তা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে ভুল রিপোর্টের কারণে রোগীকে ভুল চিকিৎসা নিতে হতে পারে, যা তার শারীরিক, আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি ও মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কাইয়ুম মোল্লা সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে অনুরোধ ও চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে নাছির উদ্দিন বলেন, “আমি নিদিশা ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজিতে তিন বছরের কোর্স করেছি। সেখান থেকে আমাকে যদি ভুয়া সনদ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। আমিও জানতাম না প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া।”
এক্স-রে পরিচালনার বিষয়ে কাইয়ুম মোল্লা বলেন, “সনদ দেওয়ার সময় আমাকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে, আপনি এক্স-রে করতে পারবেন। তাই আমি এক্স-রে করি।”
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসমত জাহান ভূঁইয়া বলেন, “যদি উথলি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেকনোলজিস্ট ভুয়া হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, উথলি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স, টেকনোলজিস্টদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদপত্র, প্যাথলজি ও এক্স-রে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদনসহ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে রোগীদের নিরাপদ ও নির্ভুল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও বৈধ সনদধারী টেকনোলজিস্ট দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের সনদের বৈধতা কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।