
মোঃ আমজাদ হোসেন | স্টাফ রিপোর্টার :
হলুদের সমারোহে ঢেকে গেছে জয়পুরহাটের মাঠ-প্রান্তর। দিগন্তজুড়ে সরিষার ফুলের হাসি আর সেই ফুলে ফুলে গুঞ্জন তুলে ব্যস্ত মৌমাছির দল। প্রকৃতির এই অপূর্ব আয়োজন থেকেই সোনালি মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমি মধু চাষিরা।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার হাইল্ট্রী এলাকায় এখন চোখে পড়ছে ভিন্ন এক চিত্র। রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী তাবু ও সারি সারি মধুর বাক্স। প্রতি বছর সরিষার মৌসুম এলেই পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুর, রংপুর ও গাইবান্ধা থেকে মধু চাষিরা ছুটে আসেন জয়পুরহাটে। বিস্তীর্ণ সরিষার ক্ষেতই তাদের টেনে আনে এখানে।
ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। মৌমাছির বাক্স স্থাপন, মধু সংগ্রহ এবং সযত্নে সংরক্ষণ—সবকিছুতেই চলে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম। সরিষার ফুল থেকে সংগৃহীত এই খাঁটি মধু স্বাদ ও গুণে আলাদা হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা তুলনামূলক বেশি।
মধু চাষিরা জানান, সরিষার মৌসুমই তাদের বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন ভালো হয়। প্রতি সপ্তাহে একটি বাক্স থেকে গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন বাড়ায় স্থানীয় কৃষকরাও উপকৃত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জয়পুরহাটের উপপরিচালক এ. কে. এম. সাদিকুল ইসলাম বলেন,
“এ বছর জয়পুরহাট জেলায় ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মৌচাষিরা মধু সংগ্রহের জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বাক্স স্থাপন করেছেন। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে মধু বাজারজাত করে তারা ভালো লাভবান হচ্ছেন। এ বছর মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্রিক টন।”