
বান্দরবানের লামা উপজেলার বৃহত্তর ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নকে বিভক্ত করে প্রস্তাবিত ৮নং ইয়াংছা ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণশুনানির স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধা ও মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এক নোটিশে জানানো হয়, প্রস্তাবিত ৮নং ইয়াংছা ইউনিয়ন গঠন সংক্রান্ত গণশুনানি আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গণশুনানির স্থান হিসেবে কুমারী পুলিশ ক্যাম্প মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধা-অসুবিধা ও আপত্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থান পরিবর্তন করে ইয়াংছা বাজারে গণশুনানি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে কুমারী, ইয়াংছা ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রস্তাবিত ইয়াংছা ইউনিয়নের জনগণের মতামত সরাসরি গ্রহণের জন্য তাদের কাছাকাছি এলাকায় গণশুনানির আয়োজন করায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়বে।
স্থানীয়দের মতে, নতুন ইউনিয়ন গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এমন স্থানে গণশুনানি আয়োজন করা প্রয়োজন, যেখানে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষ সহজে উপস্থিত হয়ে তাদের দাবি, প্রত্যাশা, বাস্তব সমস্যা ও মতামত প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পারেন।
এদিকে, ৮নং ইয়াংছা ইউনিয়ন গঠনকে ঘিরে কুমারী, ইয়াংছা ও আশপাশের এলাকায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন ইউনিয়ন গঠিত হলে প্রশাসনিক সেবা মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে, উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
সচেতন মহলের মতে, গণশুনানিতে এলাকার জনসংখ্যা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাজার, প্রশাসনিক সেবা এবং সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক মতামত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নির্ধারিত তারিখ ও স্থানে সংশ্লিষ্ট সবার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও গঠনমূলক মতামতের মধ্য দিয়ে প্রস্তাবিত ৮নং ইয়াংছা ইউনিয়ন গঠনের গণশুনানি সফল ও অর্থবহ হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।