
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ শরিফুল ইসলাম
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি পাঠিয়ে হ.ত্যা ও ডাকাতির হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে অন্তত ১৫টি বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের ‘রঘু ডাকাত’ পরিচয় দিয়ে ভয়ঙ্কর এসব চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লেখা ছিল— “কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসবো, তাই দরজা খোলা রাখবেন। না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস।” প্রতিটি চিঠিতে আলাদা কোড নম্বরও ব্যবহার করা হয়েছে।
গ্রামবাসীরা জানান, টানা চার থেকে পাঁচ দিন ধরে একের পর এক বাড়িতে এ ধরনের হুমকিমূলক চিঠি পৌঁছানোয় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম ভীতি তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের একা স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা।
একই গ্রামের কৃষক আবু সাঈদের বাড়িতে গরু লুটের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তার মেয়ে বিথি খাতুনকে লক্ষ্য করে পৃথক একটি রক্তমাখা চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে কয়েকটি বাড়িতে চুরি ও ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খামারি আবু হোসেনের বাড়ি থেকে একটি ষাঁড় চুরি এবং আমজাদ হোসেনের বাড়ির লকার ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী আমজাদ হোসেন জানান, গত ১২ মে মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে তিনি তার স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন। গভীর রাতে জেগে উঠে দেখেন ঘরের লকার ভেঙে প্রায় ৩০ লাখ টাকার স্বর্ণ, রূপা ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতায় গ্রামের যুবকেরা রাত জেগে পাহারা দিলেও চুরি-ডাকাতি ঠেকানো যাচ্ছে না। টেকুয়াপাড়ায় সন্ধ্যার পর বাজার ও রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রক্তমাখা চিঠির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
#সিরাজগঞ্জ #শাহজাদপুর #রঘু_ডাকাত #রক্তমাখা_চিঠি #ডাকাতির_হুমকি #চুরি #গ্রামবাংলা #বাংলাদেশ_সংবাদ #জনতারদেশকন্ঠ