বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বোচাগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত টাঙ্গাইলে ‘Job Fair 2026’: তাৎক্ষণিক নিয়োগ ৪৪৬ জনের, এক মাসে চাকরি পাবেন আরও ১,৫৮১ জন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তে ধন্যবাদ নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত শাহজাদপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আলোচনা, দোয়া ও বৃক্ষরোপণ সিংগাইরে যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণ দিরাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ডের তৃতীয় ধাপের নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ শিবালয়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বিভিন্ন মাদরাসা পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক: ‘সিলেট ঐতিহ্যগতভাবেই ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নগরী’ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জয়পুরহাটে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, কেক কাটা ও আলোচনা সভা

বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই বাড়তি বিল, সিংগাইরে গ্রাহকদের হাহাকার লোডশেডিং ও অস্বাভাবিক বিল—দুই সংকটে সাধারণ মানুষ

- / বার্তা পাঠানো হয়েছে
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

রিপন মিয়া, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির মধ্যেই এবার অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, মে মাসের তুলনায় জুন মাসে অনেকের বিদ্যুৎ বিল প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল কমছে না, বরং বেড়েই চলেছে। দিনে ও রাতে মিলিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে বাড়তি বিল আসায় পরিবারগুলোর ওপর পড়ছে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ।

সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। বকেয়া বিল পরিশোধ না করায় ৭ থেকে ১০ হাজার গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪৬ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ মেগাওয়াট। অনেক সময় এর চেয়েও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বিদ্যুতের দাম বাড়ার পর থেকেই তারা ব্যবহারে সতর্ক হয়েছেন। তারপরও জুন মাসে অনেকের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

ধল্লা গ্রামের অটোরিকশাচালক মহিদুর রহমান বলেন, “গত মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ছিল ৯০০ টাকা। এবার এসেছে ১ হাজার ৭০০ টাকা।”

মেদুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জানান, “মে মাসে বিল ছিল ৪ হাজার টাকা। জুন মাসে হয়েছে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। একই গ্রামের আমার বড় ভাইয়ের বিল ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫৫৬ টাকা হয়েছে।”

সিংগাইর পৌর সদরের বাসিন্দা সাংবাদিক রকিবুল হাসান বিশ্বাস বলেন, “মে মাসে আমার বিল ছিল ৮৪৭ টাকা। জুন মাসে এসেছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা।”

সাবেক পৌর কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী রিপন আক্তার ফজলু বলেন, “আমার ভবনের ১৭ জন ভাড়াটিয়ার অধিকাংশই দিনের বেলায় বাসায় থাকেন না। তারপরও প্রায় সবার বিল বেড়েছে। আমার নিজের বিলও ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮ হাজার টাকা হয়েছে। বিষয়টি জোনাল অফিসের ডিজিএমকে জানিয়েছি।”

কানাইনগর গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের উপজেলায় বিদ্যুৎ যায় না, মাঝেমধ্যে আসে।”

এ বিষয়ে সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, “সাধারণত প্রতি ৩০ দিন পরপর মিটার রিডিং নিয়ে বিল প্রস্তুত করা হয়। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে মে মাসে টানা সাত দিনের ছুটি থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিল প্রস্তুত করা হয়েছিল। ফলে মে মাসে তুলনামূলক কম ইউনিটের বিল হয়েছিল। বাকি সময়ের ইউনিট জুন মাসের বিলে যুক্ত হওয়ায় অনেকের বিল বেশি এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার নির্ধারিত বিদ্যুতের ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রভাবও বিলে পড়েছে। কোথাও মিটার রিডিংয়ে ভুল থাকলে গ্রাহক অভিযোগ করলে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি বাড়তি বিলের চাপ—দুই সমস্যায় এখন বিপাকে সিংগাইরের সাধারণ গ্রাহকরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews