
গোলাম মোস্তফা,ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসা ও অনলাইন ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় শিপন রহমানের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত স্মার্টফোন ও নগদ ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উপজেলার দেওয়ানের খামার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—দেওয়ানের খামার এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. শিপন রহমান (৩৩), মো. মোজাহার আলীর ছেলে মো. শাকিল বাবু (১৯), মো. অপু শেখের ছেলে মো. হাসিবুল ইসলাম (৩২) ও আলম মিয়ার ছেলে মো. শাকিল আহম্মেদ (১৬)।
পুলিশ জানায়, ভূরুঙ্গামারীর দেওয়ানের খামার এলাকার ধানক্ষেত ও সুপারিবাগানে বসে কিছু চিহ্নিত মাদক কারবারি নিয়মিত ইয়াবা সেবন ও কেনাবেচা করছিল। চারদিকে ফাঁকা ধানক্ষেত থাকায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যেত। এ কারণে সুপারি ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশ ধারণ করে কৌশলে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে থানার এসআই সাইফুল ইসলাম ও এসআই আল-আমিন অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের শুরুতে শাকিল বাবু, হাসিবুল ইসলাম ও শাকিল আহম্মেদকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিপন রহমানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তাঁর কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম, অনলাইন ক্যাসিনো খেলায় ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ও নগদ ৮৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, শিপন রহমান ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও অনলাইন ক্যাসিনো ডিলার। সাম্প্রতিক সময়ে একটি অনলাইন ক্যাসিনো ওয়েবসাইটে জ্যাকপট পেয়ে তিনি ১২ লাখ টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশোধিত জুয়া আইন-২০২৬ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “শিপন রহমান (৩৩) ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যাসিনো সম্রাট। শিপন আমাদের নজরদারিতে ছিল। আজ তিনজন সহযোগী ও মাদকসহ শিপনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব মাদক কারবারি এবং অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।”