বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় সামনে এলো মাস্টারমাইন্ডের নাম ভূটানের প্রতিনিধি দলের সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন বোচাগঞ্জে মেডিসিন ব্যবসায়ীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ গ্যাস সরবরাহ এক থেকে দেড় সপ্তাহে স্বাভাবিক হবে : রিজভী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফী পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবি লালপুরে ৩০ পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে, ভাঙন আতঙ্কে আরও বহু পরিবার ধামইরহাটে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা দলিল লেখক সমিতির ১৭ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন বিশ্বনাথে সোনাপুর চ্যারিটি গ্রুপের উদ্যোগে কৃতি দাখিল শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা মুন্নার ওপর হামলার প্রতিবাদে ফাঁসিয়াখালীতে বিএনপির বিক্ষোভ

বোচাগঞ্জে মেডিসিন ব্যবসায়ীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

-
মিজানুর রহমান ।। স্টাফ রিপোর্টার / বার্তা পাঠানো হয়েছে
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে এক মেডিসিন ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন এবং ব্যবসায়িক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেডিসিন ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সেতাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বোচাগঞ্জ উপজেলার আটগাঁও সরকারপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাসেমের ছেলে এবং আটগাঁও ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে একই গ্রামের মোজাহারুল হক, পিতা—হজো মোহাম্মদ, গত ২৯ আগস্ট শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তার বসতবাড়ির সামনে এসে তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।

এ সময় তিনি ও তার বড় ছেলে সাব্বির মৌখিকভাবে এর প্রতিবাদ করলে মোজাহারুল হক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে তিনি তার মুদি দোকান থেকে একটি ধারালো দা নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে এসে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।

তার অভিযোগ, ওই সময় দা দিয়ে হামলার ঘটনায় তিনি ও তার ছেলে সাব্বির শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হন। আত্মরক্ষার জন্য তিনি পাশের বেড়া থেকে বাঁশের বাতা খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মোজাহারুল হকের হাত থেকে দা ফসকে গিয়ে তার নিজের শরীরেই আঘাত লাগে বলে দাবি করেন মিজানুর রহমান।

মিজানুর রহমান বলেন, মোজাহারুল হক আহত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন এলাকাবাসী মনে করেন, তাকে তিনি ও তার ছেলে আঘাত করেছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কালাম, পিতা—মৃত পচা মফিজ; রফিকুল, পিতা—মৃত গলিয়া; আমিনুল, পিতা—কানু মোহাম্মদ; হাসিবুর, পিতা—মৃত মকবুলসহ আরও কয়েকজন তাদের দুজনকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে আটগাঁও চৌরাস্তা বাজারে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে তাকে ও তার ছেলে সাব্বিরকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর পিতা-পুত্রের ওপর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্যাতনের সময় তার প্যান্টের পকেটে থাকা ব্যবসায়িক ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তার অন্য পকেটে থাকা মোটরসাইকেলের চাবি, ফার্মেসির চাবি ও মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ এসে তাকে ও তার ছেলে সাব্বিরকে নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে জানান মিজানুর রহমান।

মিজানুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে তার মা থানায় গিয়ে তাকে জানান যে, মোটরসাইকেলের চাবি, দোকানের চাবি ও মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে তার পকেট থেকে নিয়ে যাওয়া ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে মিজানুর রহমান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, নির্যাতন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তার কাছে থাকা টাকা ছিল ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য। ওই টাকা ছিনিয়ে নেওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে ও তার ছেলেকে প্রকাশ্যে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোজাহারুল হক ও অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews