
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী সেলফী পরিবহনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ তুলে পরিবহনটির রুট পারমিট বাতিলের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সচেতন মহল। এ দাবিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম মহাসড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে রাজধানী ঢাকা, মানিকগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে গণপরিবহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তবে সেলফী পরিবহনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং এবং বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের অভিযোগ রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিদাতাদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগের কারণে শুধু সেলফী পরিবহনের যাত্রীরাই নন, মহাসড়কে চলাচলকারী অন্যান্য যানবাহনের চালক ও যাত্রীরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। ফলে সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।
এ অবস্থায় সেলফী পরিবহনের গত কয়েক বছরের দুর্ঘটনার রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য, যানবাহনের ফিটনেস সনদ, রুট পারমিট, চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক খন্দকার তুহিন হোসেন বলেন, “তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়ম, বেপরোয়া গাড়ি চালানো কিংবা ফিটনেস ও রুট পারমিট সংক্রান্ত অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়। একটি গণপরিবহনের চালকের সামান্য অসতর্কতা বা বেপরোয়া আচরণও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সেলফী পরিবহনের চালকরা নিয়মিতভাবে ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিধিমালা মেনে চলছেন কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং অভিযান জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।
কোনো পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা চালকের অবহেলা কিংবা আইন লঙ্ঘনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়। নাগরিক সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফী পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী সব গণপরিবহনের ফিটনেস সনদ, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুট পারমিট এবং নির্ধারিত গতিসীমা নিয়মিত যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া সেলফী পরিবহনের প্রকৃত কতটি গাড়ির বৈধ রুট পারমিট রয়েছে এবং অনুমোদনের বাইরে কোনো গাড়ি মহাসড়কে চলাচল করছে কি না, তা তদন্ত করে নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিদাতারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিটি দুর্ঘটনার সঙ্গে মানুষের জীবন, একটি পরিবারের স্বপ্ন ও রাষ্ট্রের সম্পদ জড়িয়ে থাকে। তাই যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে চলাচলকারী সব গণপরিবহনের ওপর কার্যকর নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা জরুরি।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক সচেতন সমাজের আহ্বায়ক খন্দকার তুহিন হোসেন, সদস্য পীযূষ ফাইটার, মো. চঞ্চল, রুবেল হোসেন, সাকিব আল হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
নাগরিক সচেতন মহল আশা প্রকাশ করে, স্মারকলিপিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।