সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদা না দেওয়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি জয়পুরহাটে ৩ হাজার ৮ পিস টাপেন্টাডলসহ ৫ জন আটক শিবালয়ে এক কেজি গাঁজাসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী অটোরিকশা-ভ্যান শ্রমিক দলের আলোচনা সভা কালাইয়ে টাপেন্টাডল-গাঁজাসহ ৬ জন গ্রেপ্তার, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা জনতার দেশকণ্ঠের শাহজাদপুর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ শরিফুল ইসলামকে সম্মাননা স্মারক প্রদান অবশেষে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত সোহাগের পরিবারের বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (রহ.) আধ্যাত্মিকতার শিখরে থেকেও সমাজ সংস্কারে অনন্য অবদান রেখে গেছেন মানিকগঞ্জে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের ভাঙা অংশ সংস্কার করলেন দিরাইয়ের যুবকরা

এসএসসি সাফল্যের লক্ষ্যে ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ে কঠোর নজরদারি, নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ

-
সাদ্দাম হোসেন সাইফ  ।। বান্দরবান প্রতিনিধি / বার্তা পাঠানো হয়েছে
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং আগামী এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে বান্দরবানের লামা উপজেলার ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষিকারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ এবং বাড়ির কাজ সম্পন্ন করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছেন। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উপস্থিতিতে গুরুত্ব, নির্বাচনী পরীক্ষায় কঠোরতা

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে উপস্থিতির হারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার সন্তোষজনক নয়, তাদের নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে নির্বাচনী পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল করতে ব্যর্থ শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সুপারিশ গ্রহণ না করার বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতির প্রতি মনোযোগী করতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বাড়ির কাজ ও নিয়মিত পড়াশোনায় জোর

শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে বাড়ির কাজ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা পাঠদান শেষে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বাড়ির কাজ দিচ্ছেন এবং পরবর্তী সময়ে তা সম্পন্ন হয়েছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তদারকি জোরদার করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ নজর

গণিত, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান ও ফিন্যান্সসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর আলাদা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যেসব শিক্ষার্থী তুলনামূলকভাবে দুর্বল, তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হচ্ছে—শুধু পরীক্ষার আগে নয়, পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়ে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত রাখা। এর মাধ্যমে তাদের মৌলিক জ্ঞান ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিও শক্তিশালী করা।

অভিভাবকদের দায়িত্বকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষক মুফিজ উদ্দিন মনে করেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতনতা ও সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি মনে করেন, সন্ধ্যার সময় শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে বসানো, পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা এবং নিয়মিত তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর রাখা অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিক্ষার্থীরা যেন অযথা সময় নষ্ট না করে নিয়মিত পড়াশোনা করে, সেদিকেও অভিভাবকদের নজর রাখা প্রয়োজন।

এ কারণে অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের পড়াশোনায় আরও সক্রিয়ভাবে নজর দেওয়া এবং বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আড্ডা ও সময় অপচয় রোধে উদ্যোগ

এদিকে সন্ধ্যার পর বাজারঘাট, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয় আড্ডা ও সময় অপচয় রোধেও পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন যুবসমাজের সহযোগিতা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার সময় পড়াশোনায় মনোযোগ দেয় এবং অবসর সময়ও সুশৃঙ্খলভাবে কাটাতে পারে—এমন একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সচেতন মহল ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নেওয়া এসব উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

তাদের মতে, শুধু ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করলেই হবে না; শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ, শৃঙ্খলা এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সমন্বিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। এসব উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রশাসন ও স্থানীয় সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা যুক্ত হলে ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে আগামী এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের সম্ভাবনাও আরও বাড়বে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত II দৈনিক জনতার দেশকন্ঠ II আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ। জিমেইল : janatardeshkhantho@gmail.com
Theme Customized By BreakingNews