
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার ৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, একক নৃত্য, একক অভিনয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তাদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন শিশুদের মানবিক, দেশপ্রেমিক ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রেরণা দেয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলার ৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে এমন আয়োজনে অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে আনন্দের বিষয়। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও যেন নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাজহারুল হুদা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিকাশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নজরুলের সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিকতা, সাহস ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত করতে পারে। তাই বিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাজি মো. জিয়াউল হক বলেন, নজরুলের সাহিত্য আমাদের সাম্য, মানবতা ও ন্যায়বোধের শিক্ষা দেয়। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করা হলে তারা দায়িত্বশীল ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রশিদ বলেন, প্রকৃতি ও মানুষের জীবন নজরুলের বিভিন্ন সৃষ্টিতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিশুদের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রাখলে তাদের প্রতিভার বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন নয়; শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনা শিক্ষার্থীদের ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল আলম, উপজেলা ইন্সট্রাক্টর মো. সাদেক হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আহসানুল হকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলার ৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে উপজেলার ৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে। তাদের আবৃত্তি, নজরুলসংগীত, নৃত্য ও অভিনয় পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে এ আয়োজনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে